• রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
  • English English French French German German
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশের বাজারে টেকনো’র নতুন চমক স্পার্ক ৮ প্রো দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে মাসুদ আলম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মওদুদ নির্বাচিত ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি সীমান্তে ৮ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার মাদকসহ বিভিন্ন মালামাল আটক প্যারাসুট নারিকেল তেল-এর নতুন উৎসব প্যাক বাংলাদেশে ৩ জিবি’র স্পার্ক সেভেন স্মার্টফোন নিয়ে এলো টেকনো টেকনো ক্যামন ১৭ সিরিজ এখন দেশের সকল আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে বাজারে নিজেদের অবস্থানের সাথে মিল রেখে টেকনো’র নতুন স্লোগান – “স্টপ অ্যাট নাথিং” দিনাজপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের লিফট ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন। এন.ডি.এফ এর কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারক লিপি প্রদান। দিনাজপুর পৌরসভার রাস্তাঘাট সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবীতে মানববন্ধন

তেঁতুলিয়ায় ঘরের মালিক হয়েছে ২৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার

Reporter Name / ৫৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ

কেউ থাকতো অন্যের জমিতে বাড়ি করে,কেউ থাকতো অন্যের বাড়িতে ভাড়া, আবার কেউ থাকতো খাসজমিতে ভাঙাচোরা ঘরে। তাদের ২ মাস আগেও ছিলো না কোন স্থায়ী ঠিকানা৷ দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর দেয়া হয়েছে। এসব ঘর পেয়ে বদলে গেছে এসব সুবিধাভোগী মানুষের জীবনমান । ফলে সমাজের আর দশ মানুষের মতো সুন্দর ভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে তেঁতুলিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার আশ্রয়ন -২ প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরের ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। প্রত্যেকটি ঘরে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা করে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার এই ঘরগুলো পেয়ে হাসি ফুটছে এসব ছিন্নমূল,আশ্রয়হীন ও দুর্ভোগ পোহানো মানুষগুলোর মুখে। টেকসই ও মজবুত পাকা ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে এখন তারা স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করছেন। এই সুবিধা পেয়েছেন প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক ও নৃগোষ্ঠীরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১ম পর্যায়ে ১৪২ টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩৫টিসহ মোট ২৭৭টি ঘর বরাদ্দ পাওয়া যায়। ‘ জমি নেই ঘর নেই এমন ‘ক’ তালিকাভুক্ত। ১০ শতাংশ পর্যন্ত জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন ‘খ’ তালিকাভুক্ত এবং ১০ শতাংশ পর্যন্ত জমি আছে ঘর আছে কিন্তু জরাজীর্ণ এমন ‘গ’ তালিকাভুক্ত এমন মোট ২৭৭টি পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাদ্রুবাড়ি এলাকার উপকারভোগী গোপাল চন্দ্র বলেন, বলেন,আগে আমরা ছোট ভাঙা ঘরে শিশু সন্তান নিয়ে শীত-বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট করে বসবাস করতাম। এখন আর ভাঙা ঘরে থাকতে হয় না। সরকার আমাদের নতুন ঘর দেয়ায় এখন আমরা সুখে দিন কাটাতে পারছি। রাতের বেলা পরিবার পরিজন নিয়ে নিশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারছি। আগের মত কষ্ট আর করতে হয় না।

একই কথা বলেন মাগুরা এলাকার সামাদ শেখ,তিনি বলেন,আমি আগে মানুষের জমিতে ঘর করে ছিলাম। নিজের কোন ঘর বাড়ি জমি ছিল না। এখন সরকার আমাকে জমি দান করে ঘর তৈরী করে দিয়েছে। এখন আমার জমিও আছে ঘরও আছে। সারাদিন বাইরে কাজ করে রাতে পাকা ঘরে আরামে ঘুমাতে পারছি। এখন সুখেই আছি এখন আর নিজেকে গরীব মনে হয় না।

নতুন ঘর পেয়ে উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের রনচন্ডী এলাকার মালেক নগর আশ্রয়ন প্রকল্পে আব্দুল আলিম বলে,নিজের জমি না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের জমিতে ভাঙা ঘরে বসবাস করেছি। পরে অনেক কষ্ট করে স্বামী স্ত্রী মিলে জমি কিনতে পারলেও ঘর করার সামর্থ্য ছিল না আমার। পরে সরকার আমাকে ঘর করে দিয়েছে আরও পাকা ঘর। ঘরের সাথে টয়লের,টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।এখন নিজের জায়গায় পাকা ঘরে থাকতে পারছি। পাকা ঘরে আমার মতো নগন্য মানুষ থাকবো কখনো স্বপ্নেও দেখিনি।ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই প্রধানমন্ত্রীকে।

এমন কথা এখন সুবিধা বঞ্চিত অসহায় এই মানুষ গুলো মুখে মুখে। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নতুন ঘর পেয়ে কষ্ট দূর হয়েছে। শেষ বয়সে সরকারের দেয়া অনেক সহযোগিতা পেয়ে এখন আমরা অনেক সুখে আছি। এখন আমরা দিনে কাজ করি রাতে পাকা ঘরে শান্তিতে ঘুমাই।

এবিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন,আমরা তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের তালিকা করে মোট ২৭৭টি পরিবারকে মুজিব শতবর্ষ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এসব ঘর বরাদ্দ দিয়েছি। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর নির্মাণ শেষ করে আমরা উপকারভোগী পরিবারদের মাঝে ঘরের চাবি হস্তান্তর করেছি৷ উপকারভোগীরা নতুন ঘর পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এখন সুখেই দিনরাত্রি অতিবাহিত করছে। আমি নিজে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি। এছাড়াও
তারা যেন সবার মতো পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করতে পারে তার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যােগ গ্রহণ করেছি। আমরা বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করতেছি।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহারের এই ঘরগুলো তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ ৫ উপজেলার স্ব -স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগী পরিবারদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা ঘর পেয়েছেন তারা আনন্দে ও স্বাচ্ছন্দে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করছেন। করোনাকালে সকল উপকারভোগীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে। কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার যেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখাসহ তাদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ